ফ্যাশন এমন একটি শিল্প যা স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরিত করে। এই শিল্পে প্রবেশ করে ওয়ালিউদ্দীন আহমদ চৌধুরী তাঁর বড় স্বপ্ন এবং দৃঢ় ইচ্ছা নিয়ে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ফ্যাশন জগতের একটি বিশিষ্ট নাম করতে সচেষ্ট। নেপাল থেকে নিউইয়র্ক পর্যন্ত তিনি এমন ঝুঁকি নিয়েছেন যা অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়, এবং তাঁর অতুলনীয় চাতুর্যের মাধ্যমে ফ্যাশনের জগতে নিজের ছাপ রেখেছেন।
ফ্যাশন তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা ছোটবেলা থেকেই তাঁকে বিমোহিত করেছে। তাঁর বাবার চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসেবে কাজ করা এবং সেলিব্রিটিদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলি তাঁকে ফ্যাশনের প্রতি আগ্রহী করে তোলে। নাচের ক্লাস নিয়েও তিনি সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটান, কিন্তু শীঘ্রই ফ্যাশন ডিজাইনের আসল আহ্বান বুঝতে পেরে নাচ ছেড়ে দেন।
আইএনআইএফডি থেকে ফ্যাশন ডিপ্লোমা পাওয়ার পর, ওয়ালিউদ্দীন বাংলাদেশের প্রথম মডেল প্রদর্শনী এবং মডেল গ্রুমিং স্কুল প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ফ্যাশন কোরিওগ্রাফার হিসেবে তাঁর কাজ শুরু করার পর, তিনি আড়ং বাংলা ফ্যাশন সপ্তাহে ডিজাইনার হিসেবে প্রথম অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, যা তাঁর জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়।
ওয়ালিউদ্দীন তাঁর সংগ্রহের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরেন। ২০১১ সালে তাঁর বেনারসি দ্বারা অনুপ্রাণিত সংগ্রহ লন্ডনের অল সিল্ক ইয়ার্ডস ফ্যাশন শোতে প্রদর্শিত হয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে, তাঁর সংগ্রহ ভারতের এশিয়ান ডিজাইনার সপ্তাহে এবং নেপালের TGIF ফ্যাশন সপ্তাহে স্থান পায়।
তিনি ২০১৯ সালে ‘ওয়ালি প্রেজেন্টস মিস্টার অ্যান্ড মিস ফটোজেনিক’ বিউটি পেজেন্ট শো চালু করেন, যা নতুন মডেলদের জন্ম দিতে এবং ফ্যাশন জগতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করতে সাহায্য করেছে। বর্তমানে নিউইয়র্ক সিটিতে বসবাসরত এই প্রতিভাবান ডিজাইনার তাঁর দেশের অর্জন ও আন্তর্জাতিক পোর্টফোলিও নিয়ে গর্বিত।
ওয়ালিউদ্দীন আহমদ চৌধুরী ফ্যাশনের মাধ্যমে সারা বিশ্বে তাঁর প্রতিভা এবং সৃজনশীলতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন, এবং ভবিষ্যতে আরও মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইভেন্টে অংশগ্রহণের আশা করছেন। তাঁর উদ্দীপনা এবং সৃজনশীলতা বাংলাদেশের ফ্যাশন জগতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
৩৬০ বিনোদন