পুলিশের বর্তমান মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের মেয়াদ শেষ হয়েছিল গত বছর ১১ জানুয়ারি। কিন্তু এরপর আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনের চাকরির মেয়াদ আবারওবেড়েছে। তার চাকুরীর মেয়াদ এক বছর ছয় মাস অর্থাৎ দের বছরের জন্যতাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছিল সরকার। শেষ পর্যন্ত চৌধুরী আবদুল্লাহআল–মামুনের চাকরির মেয়াদ যদি ফের বাড়ে এটি হবে দ্বিতীয় দফায়চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ।
এর আগে গত বছর ৯ জানুয়ারি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের মেয়াদআরও দেড় বছর বাড়ানো হয়েছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, এই দফায় তার মেয়াদ আর বাড়াচ্ছে না সরকার। অতিরিক্ত আইজিপি ওএন্টিটেররিজম ইউনিটের প্রধান এস এম রুহুল আমিন বাংলাদেশ পুলিশেরনতুন আইজিপি হচ্ছেন বলে একটি বিশেষ সূত্রে জানা গেছে ।
বাংলাদেশ পুলিশের নতুন আইজিপি হিসেবে আলোচনায় সবচেয়ে এগিয়েআছেন ১২তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি ওএন্টিটেররিজম ইউনিটের প্রধান এস এম রুহুল আমিন।
জনাব রুহুল আমিন ১৯৯১ সালে ১২তম বিসিএস পুলিশে তার ব্যাচে প্রথমস্থান অধীকার করেন । এছাড়া তিনি পুলিশ একাডেমিতে এবং অন্যান্যপ্রতিটি ট্রেনিং ও পরীক্ষায় তিনি প্রথম হইয়েছিলেন।
জনাব রুহুল আমিন মিলিটারি বেসিক TRG কোর্সে সেরা ছাত্রের উপাধিলাভ করেন। বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির বেসিক TRG কোর্সে সেরাঅলরাউন্ডার প্রদর্শনকারীর সম্মাননা লাভ করেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশলোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধীনে ফাউন্ডেশন TRG কোর্সে সকলক্যাডারদের (১৬৯) মধ্যে প্রশিক্ষণে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে স্নাতকসহ (সম্মান) স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করা মেধাবী ছাত্র জনাব এস এম রুহুল আমিনবাংলাদেশ পুলিশে দক্ষ,সৎ,চৌকস এবং গ্রহণযোগ্য অফিসার হিসেবেপরিচিত।
এস এম রুহুল আমিন ইতিপূর্বে অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সঙ্গে পুলিশসদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেটঅ্যাকুইজিশন, অর্থ ও লজিস্টিকস, মানব সম্পদ ও ব্যবস্থাপনা দায়িত্ব স্বচ্ছতার সাথে পালন করেছেন।
এস এম রুহুল আমিন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ–পুলিশ কমিশনার, সিলেট জেলার পুলিশ সুপার, ঢাকায় সিআইডিরবিশেষ পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি এবং রেলওয়েপুলিশের ডিআইজি হিসেবে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তিনিবরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কমিশনার হিসেবে যোগদান করেবরিশালে পুলিশি সেবার নবদিগন্তের সূচনা করেন।
বাংলাদেশ পুলিশে জনাব রুহুল আমিনের মতো এত মেধাবী অফিসার খুবকমই এসেছেন বলে অনেকে মনে করেন। নাম না প্রকাশ করার শর্তে একজনদায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, বর্তমান বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতেবেনজীর কান্ডের পর যে ভয়াবহ ইমেজ সংকট এবং পুলিশের চেইন অবকমান্ডের যে ক্ষতি হয়েছে সেই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য এই মুহূর্তে জনাবরুহুল আমিনের মতো বিকল্প পুলিশ কর্মকর্তা নেই বলে অনেকের ধারণা।বর্তমানে তার মতো এমন আদর্শবান পুলিশ কর্মকর্তা নেই বলে এই অনেকপুলিশ কর্মকর্তা মনে করেন।
জনাব রুহুল আমিন গোপালগঞ্জ সদর থানায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারেজন্মগ্রহণ করেন। এছাড়া গোপালগঞ্জের সদর উপজেলার তালা গ্রামে জম্মনেয়া জনাব রুহুল আমিন পারিবারিকভাবে বেশ সমৃদ্ধ ও স্বাচ্ছন্দের সহিতবড় হয়েছেন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীরঅবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মরহুম এসএম আব্দুল খালেকের পুত্র জনাব এস এমরুহুল আমিন ।
তার মতো এমন আদর্শবান পুলিশ কর্মকর্তা বর্তমানে পুলিশ বাহিনীতেতেমন একটা নেই বলে অনেকেই মনে করেন।
অনেকে মনে করছেন, জনাব রুহুল আমিনকে বাংলাদেশ পুলিশেরমহাপরিদর্শক হিসেবে নিয়োগের মাধ্যমেই দেশের পুলিশ প্রশাসনের বর্তমানঅস্থির অবস্হার স্বাভাবিক ও সুদৃঢ় অবস্থানে নেয়া সম্ভব।
এদিকে সরকারের নীতিনির্ধানীদের অনেকেই একমত পোষণ করেছেন এসএম রুহুল আমিন আইজিপি হলে পুলিশের এই সংকটকালীন অবস্থা দ্রুতকাটিয়ে উঠতে পারবে এবং পুলিশ বাহিনীর ইমেজের যে ক্ষতি হয়েছে তা তারনেতৃত্বে অচিরেই কাটিয়ে উঠা সম্ভব বলে তারা মনে করেন।